শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ
◈ রাঙ্গাবালীতে ভিটেবাড়ি ও কৃষি জমি রক্ষার দাবি পাঁচ পরিবারের ◈ রাঙ্গাবালীতে পল্লী বিদ্যুতের কাজে বাগড়া, সিন্ডিকেটের দাপট ◈ রাঙ্গাবালীতে পরকীয়ার জেরে মনির হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি ◈ রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ ◈ রাঙ্গাবালীতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ◈ ‘শিগগরই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে’-এমপি মহিব ◈ রাঙ্গাবালীতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ◈ রাঙ্গাবালীতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করছেন বিআরডিবি ◈ গলাচিপায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু ◈ গলাচিপায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত

পঙ্গুত্ব নিয়ে জসিমের জীবনযুদ্ধ!

প্রকাশিত : ০৭:২৮ পূর্বাহ্ণ, ১৫ মার্চ ২০২১ সোমবার 198 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক :

সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন জসিম। টমটম চালিয়ে তার যা আয় হতো, তা দিয়েই পরিবারের ভরণ-পোষণ চলতো। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার জীবন এলোমেলো করে দিয়েছে। যে জসিম ছিল সংসারের কর্তা, এখন তিনি সংসারের বোঝা।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুনী গ্রামে জসিম প্যাদার বাড়ি। বয়স ৪৩ বছর। জীবনের অর্ধেক মুহুর্তে এসে ওই দুর্ঘটনা তাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। যে টমটম চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতো। সেই টমটমেই তাকে অসহায় করেছে। এখন স্ত্রী ও এক ছেলেসহ তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাকে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় উপজেলার ছোটবাইশদিয়ার চতলাখালী গ্রামে একটি করাতকলে (স’মিল) টমটম বোঝাই গাছ নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন জসিম। এসময় গাছের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুত্বর আহত হন। পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ২৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু তার আর পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা হয়নি। ওই ঘটনায় তার দু’টি পা অবশ হয়ে যায়। পায়ে বোধ শক্তি না থাকায় হুইল চেয়ারেই তাকে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তার পঙ্গু জীবনের সহায়ক হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন সহধর্মীণি। স্থানীয়রা জানায়, পঙ্গুত্ব জীবন নিয়েও জসিম ঘরে বসে থাকতে পারেনি। সংসারের খরচ মেটাতে বাড়ির কাছাকাছি ধারদেনা করে একটি চায়ের দোকান দিয়েছেন সে।
আজ সোমবার বিশ্ব পঙ্গু দিবস। এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে জসিমের বাড়িতে যায় এ প্রতিবেদক। তখন একটি ভাঙা হুইল চেয়ারে বসে ছিলেন জসিম। এসময় কথা হয় তার সঙ্গে। জসিম বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছি। পঙ্গু দেখে কোন এনজিও লোন (ঋণ) দেয়নি আমায়। তাই আরেকজনে দিয়ে লোন ছাড়িয়ে একটি চায়ের দোকান দিয়েছি। স্ত্রীর সহায়তায় দোকানে আসা-যাওয়া করি। ওখান থেকে মাসে ৪-৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। কিন্তু তা দিয়ে সংসারের খরচ, ছেলের লেখাপড়ার খরচ, লোনের কিস্তি, আমার ওষুধপাতির খরচ হয় না। প্রতিমাসে উল্টো ঋণগ্রস্ত হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পঙ্গু ভাতা পাই না। এবার আবেদন করছি। দেখি কি হয়!’
জসিমের স্ত্রী রোমানা বেগম বলেন, ‘তার চিকিৎসার জন্য ৭ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এখনও প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ওষুধ প্রয়োজন। এরমধ্যে ছেলের পড়াশুনার জন্য মাসে ২ হাজার টাকা খরচ। আর সংসারের আনুসাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা উপার্জন করা লাগলেও দোকান থেকে ৪-৫ হাজার টাকার উপারে আয় হয় না। ফলে প্রতিমাসেই তাদের ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘জসিমের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি যদি পঙ্গুভাতা না পান, তাহলে পঙ্গু ভাতার ব্যবস্থা করা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD