শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ
◈ রাঙ্গাবালীতে ভিটেবাড়ি ও কৃষি জমি রক্ষার দাবি পাঁচ পরিবারের ◈ রাঙ্গাবালীতে পল্লী বিদ্যুতের কাজে বাগড়া, সিন্ডিকেটের দাপট ◈ রাঙ্গাবালীতে পরকীয়ার জেরে মনির হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি ◈ রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ ◈ রাঙ্গাবালীতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ◈ ‘শিগগরই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে’-এমপি মহিব ◈ রাঙ্গাবালীতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ◈ রাঙ্গাবালীতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করছেন বিআরডিবি ◈ গলাচিপায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু ◈ গলাচিপায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত

রাঙ্গাবালীতে বালুচরে তরমুজ চাষে সফল কৃষকরা

প্রকাশিত : ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ, ১৩ মার্চ ২০২১ শনিবার 94 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক :

মাটিবিহীন অনাবাদি বালুচরে তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন একদল চাষী। এ উদ্ভাবন কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নয়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার দুইটি চরে তরমুজ চাষ করে সাফল্য এনেছেন একদল প্রান্তীক চাষী। এ পদ্ধতিতে অমৌসুমেও বালুচরে তরমুজ চাষ করা যায়। চাষীরা বলছেন, আবাদি কৃষি জমিতে তরমুজ চাষ করলে অতিবৃষ্টিতে ঝুঁকি থাকে। গাছের নিচে পানি জমে পচন ধরে। কিন্তু বালুচরে তরমুজ চাষে সেই ঝুঁকি নেই। বরং বৃষ্টিই এই চাষে আর্শিবাদ।
দণিাঞ্চলে তরমুজ উৎপাদনে অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত এ উপজেলা। লাভজনক ফলন হওয়ায় প্রায় দেড়যুগ ধরে আবাদি কৃষিজমিতে তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। সাধারণত ডিসেম্বের মাসে আমন ফসল তোলার পর জানুয়ারি মাস থেকে তরমুজের আবাদ শুরু হয়। এপ্রিল মাসে ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারে বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু গত তিন বছর ধরে চাষীদের নতুন উদ্ভাবনে উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের জাহাজমারা ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া অনাবাদি বালুচরে ডিসেম্বর মাসেই আগাম তরমুজের আবাদ শুরু হয়। যা মার্চের শুরু থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত হচ্ছে।

জানা গেছে, শুরুতে লোকসানের ভয়ে অনেকে বালুচরে তরমুজ চাষে সাহস করেননি। কিন্তু প্রথম ১০-১২ জন চাষী বালুচরে আগাম তরমুজ চাষ করে ফলনের পাশাপাশি বাজার দরও ভাল পাওয়ায় অন্যদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি বছরে ৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সমুদ্র তীরের কলাগাছিয়া ১২০ এবং জাহাজমারা বালুচরে ৮০ হেক্টর জমিতে অর্ধশতাধিক চাষী তরমুজ চাষ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেতের ফল পেকেছে। বাজারজাতের জন্য চাষীদের কেউ ফল কাটছে, কেউ পরিবহণে তুলছে, কেউবা েেতর পরিচর্যায় করছে। সবাই এখন কর্মব্যস্ত। জাহাজমারা বালুচরে গিয়ে কথা হয় তরমুজ চাষী ফারুক হওলাদারের (৪০) সঙ্গে। তিনি তখন ক্ষেতে পানি দিচ্ছিলেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এ বছর পাঁচ একর জমিতে তরমুজ দিয়েছেন। খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। আগাম আবাদ করায় ক্ষেতে আগাম তরমুজ উঠেছে। প্রথম তার ৩০০ পিচ তরমুজ বিক্রি হয়েছে। ২৮০ টাকা করে প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হয়েছে । দাম পেয়েছেন ৮৪ হাজার টাকা। এখন ক্ষেতে ৩-৪ লাখ টাকার তরমুজ ক্ষেতে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি জমির চেয়ে বালুতে তরমুজ চাষ করতে পারলে ভাল। বৃষ্টির ভয় থাকে না, বালুতে পানি চুষে নিয়ে যায়। আমরা ঝুঁকি নিয়ে চাষ করে সফল হয়েছি। কিন্তু এইবার বৃষ্টি হয় নাই, তাই কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’

চলতি বছরে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। তারা জানান, বালুচরে তরমুজ চাষে একটাই সমস্য, তাহলো মিঠা পানির সংকট। কারণ এখানের সমুদ্রে এখন নোনা পানি। তাই মাটি খুঁড়ে গভীর কূপ করেছে অনেক চাষী। সেই কূপ থেকে অনেক কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। তরমুজ চাষী ফেরদাউস ও হোসেনসহ অনেকেই বলেন, চাষীদের কথা বিবেচনা করে এখানে মিঠা পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD