রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ
◈ রাঙ্গাবালীতে ভিটেবাড়ি ও কৃষি জমি রক্ষার দাবি পাঁচ পরিবারের ◈ রাঙ্গাবালীতে পল্লী বিদ্যুতের কাজে বাগড়া, সিন্ডিকেটের দাপট ◈ রাঙ্গাবালীতে পরকীয়ার জেরে মনির হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি ◈ রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ ◈ রাঙ্গাবালীতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ◈ ‘শিগগরই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে’-এমপি মহিব ◈ রাঙ্গাবালীতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ◈ রাঙ্গাবালীতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করছেন বিআরডিবি ◈ গলাচিপায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু ◈ গলাচিপায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত

১৪ কিলোমিটার ভাঙা বাঁধের সংস্কার ৩ কিলো !

প্রকাশিত : ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ, ৬ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার 22 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক :

দুর্যোগপূর্ণ এলাকা রাঙ্গাবালী। একেকটি ঝড়-বন্যা এসে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায় সাগর ও নদী ঘেরা দুর্গম এ জনপদ। তবে ঝড়ে না যতটুকু ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বাঁধ ভেঙে। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নতুন করে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে থেকেই মহাসেনসহ পরবর্তী কয়েকটি ঝড়ের তাÐবে ভেঙে আছে ১০ কিলোমিটার।
চলতি বর্ষা মৌসুমে পোল্ডারের অভ্যন্তরে ওইসব ভাঙা বাঁধ দিয়ে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, এজন্য এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর এ উপজেলার পাঁচ গ্রামে ৩ দশমিক ২০০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে কোন বরাদ্দ ছাড়াই গত মাস থেকে পাউবো বাঁধ সংষ্কারের কাজ করেছে বলে জানান তারা। কিন্তু এখনও তিন গ্রামে ১০ কিলোমিটারের বেশি বাঁধ ভেঙে থাকায় অরক্ষিত আছে সেখানকার মানুষ। বাঁধ সংস্কার না হলে দুর্যোগ মৌসুমে তিন গ্রামের মানুষ চরম ঝুঁকিতে থাকবে।
পাউবো কলাপাড়া কার্যালয় থেকে জানা যায়, ইয়াসের তাÐবে উপজেলার চালিতাবুনিয়া, চরলতা, গাইয়াপাড়া, কোড়ালিয়া, চরমোন্তাজ, চরবেষ্টিনসহ কয়েকটি এলাকার ৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অরক্ষিত ওই ছয় গ্রামের মধ্যে পাঁচ গ্রামে পানি প্রবেশ ঠেকাতে জরুরি আপদকালীন পদক্ষেপ নিয়েছে পাউবো। যেখানে বাঁধের ক্ষতি হয়েছে, সেখানে সংস্কার এবং যেখানে বিলীন হয়েছে, সেখানে পুন:নির্মাণের কাজ করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোটবাইশদিয়া সিদ্দিকিয়া মমতাজিয়া নূরুদিয়া হাফিজিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা থেকে কাউখালী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ভাঙা বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। যারফলে ওই এলাকায় জোয়ারের লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
পাউবোর তথ্য বলছে, উপজেলার কোড়ালিয়া ২০০০ মিটার, চরমোন্তাজ ২০০ মিটার, চরবেষ্টিন ২০০ মিটার, চালিতাবুনিয়া ১১০ মিটার ও চরলতা ৫০০ মিটারসহ জরুরি আপদকালীন ৩ দশমিক ২০০ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। তবে গাইয়াপাড়া ৬০০ মিটার কাজের অনুমতি এখনও পাওয়া যায়নি বলে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে কাজ করতে গেলে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন বলে জানান তারা।
জানা গেছে, গাইয়াপড়ার মত চালিতাবুনিয়া ও চরআন্ডা গ্রাম অরক্ষিত রয়েছে। যেখানে দ্রæত টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। পাউবোর তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন, বুলবুল, ফনী ও আম্পানে বিধ্বস্ত চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা ৬ কিলোমিটার এবং চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার বাঁধ এখনও পুন:নির্মাণ হয়নি। এলাকাবাসী বলছেন, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে টেকসই ও পরিকল্পিত বাঁধ চান তারা।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘রাঙ্গাবালীর মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনে তাৎক্ষণিক বাঁধ মেরামত করা প্রয়োজন ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতণ কর্মকর্তারা সরেজমিনে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ করায় এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছেন। আশা করছি, বাকি বাঁধগুলোও শিগগরই মেরামতের কাজ শুরু হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘চালিতাবুনিয়া, চরআন্ডা ও গাইয়াপাড়া বাঁধ পুন:নির্মাণ করা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।’
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী বলেন, ‘পোল্ডারের অভ্যন্তরে আমরা পানি প্রবেশ করতে দিব না। এজন্য ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে জরুরি আপদকালীন ৩ দশমিক ২০০ মিটারের কাজ করা হয়েছে। বেশিরভাগ কাজ শেষ। তারপরও আমরা শেষ বলছি না। বর্ষা মৌসুমে ক্ষতি হবে, আবার শুকনো মৌসুমে রিপিয়ার করে দেওয়া লাগবে এক বছর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত এক টাকাও বরাদ্দ নেই। সম্পূর্ণ বকেয়া কাজ করা হয়েছে। মেজারমেন্ট নিব। সেই মেজারমেন্ট পাঠাবো। বোর্ডের এ্যাসেজমেন্ট টিম আসবে, মেজারমেন্ট করবে। তারা যখন রিপোর্ট করবে তখন বরাদ্দ পাবে। প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মত খরচ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া সাগর তীরবর্তী বাঁধগুলো উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের বড় একটি টিম এসে পরিদর্শন করে গেছেন। ওনারা সিদ্ধান্ত দেয়ার সাথে সাথে আমরা কাজ শুরু করে দিব। চালিতাবুুনিয়ার কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং আগামী শুকনো মৌসুমে কাজ শুরু হবে।’
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব জানান, ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গাবালীর বাঁধগুলো আমি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর তারা গিয়ে ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত শুরু করে।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD