শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ
◈ রাঙ্গাবালীতে ভিটেবাড়ি ও কৃষি জমি রক্ষার দাবি পাঁচ পরিবারের ◈ রাঙ্গাবালীতে পল্লী বিদ্যুতের কাজে বাগড়া, সিন্ডিকেটের দাপট ◈ রাঙ্গাবালীতে পরকীয়ার জেরে মনির হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি ◈ রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ ◈ রাঙ্গাবালীতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ◈ ‘শিগগরই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে’-এমপি মহিব ◈ রাঙ্গাবালীতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ◈ রাঙ্গাবালীতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করছেন বিআরডিবি ◈ গলাচিপায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু ◈ গলাচিপায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত

রাঙ্গাবালীতে ২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমির আমন বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত : ০৭:২১ অপরাহ্ণ, ১ আগস্ট ২০২১ রবিবার 24 বার পঠিত

মাহমুদ হাসান রাজিব নিজস্ব প্রতিবেদক:

কয়েকদিন আগেও ছিল বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। চার দিনের টানা বর্ষণে আমনের বীজতলা তলিয়ে অথৈয় পানিতে ঘেরা। দৃষ্টি যতদুর যায়, থৈ থৈ পানি। কৃষি জমির কোথাও হাটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি জমে আছে। বাড়িঘরের চারপাশ পানিতে ডুবে আছে। কারও কারও বাড়ির উঠোনেও পানি চলে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজ, মধ্য চরমোন্তাজ, চরমÐল, চরল²ি , পূর্ব চরমোন্তাজ গ্রামে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শ্রাবণের অতিবর্ষণের কারণে ওইসব গ্রামে কয়েকদিন ধরে এ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এতে করে আমন আবাদের বীজতলা ডুবে বীজ পঁচে গিয়ে আমন আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এমন অবস্থায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের মতে, পানি নিষ্কাশনে বাঁধাÑপ্রভাবশালীদের মাছের ঘের। খাল-নালা দখল করে প্রভাবশালীরা মাছের ঘের করায় কৃষি জমি থেকে পানি নামছে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৫শ’ত ৯৪ হেক্টর আমন বীজতলা আবাদ করা হয়েছে এর মধ্যে ২ হাজার হেক্টর পানির নিচে রয়েছে। এছাড়া ৮শ’ ৪০ হেক্টর আউশ আবাদ করা হয়েছে এর ৩শ’ হেক্টর রয়েছে পানির নিচে, উপশী ১ হাজার ৩শ’ ৪০ হেক্টর এর মধ্যে পানির নিচে রয়েছে ১ হাজার ৭২ হেক্টর, সব্জি ৪৫০ হেক্টর এর মধ্যে পানির নিচে ১৮০ হেক্টর।
এদিকে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘চরমোন্তাজ ইউনিয়নে গ্রামে ৪৫২ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা করা হয়েছে এর ৮০ শতাংশ পানির নিচে নিমজ্জিত, উফশী ৩২০ এর মধ্যে ২৫৬ হেক্টর পানির নিচে এবং স্থানীয় ১৩২ এর মধ্যে ১০৫ হেক্টর পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে বীজতলার ক্ষতি হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শ্রাবনের এই দ্বিতীয় সপ্তাহের অতিবর্ষণে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন বিস্তীর্ণ আমনের বীজতলা ডুবে গেছে ক্ষেতজুড়ে পানি আর পানি। শুধু কৃষি জমিতে নয়, বাড়িঘরের আশপাশও পানিতে একাকার। তাই বিপর্যস্ত হচ্ছে জীবন-জীবিকা। উত্তর চরমোন্তাজর গ্রামের কৃষক শহিদুল খান বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে আমার ক্ষ্যাত (ক্ষেত), বাড়িঘর তলাইয়া রইছে। বীজতলা করতে পারতাছি না। এইবার মনেহয় আমার ৫ একর জমিই খিল (অনাবাদি) থাকবে।’ ওই গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ খান বলেন, ‘পানি সরানোর ব্যবস্থা না করলে লাগাতার বৃষ্টিতে পুরা গ্রাম তলাইয়া যাইবে। এখনি ঘরের চাইরপাশে পানি। ঘর থেকে বাইর হইতে পারি না।’
জানা গেছে, গত চার দিনের টানা বর্ষণে কয়েক গ্রামে ৭ হাজার লোকজন পানিবন্ধি হয়ে পরেছে। তাছাড়া চাষবাদ করেই চলে এখানকার জীবন-জীবিকা। কিন্তু বর্ষা মৌসুম (আষাঢ়-শ্রাবণ) এলেই দুশ্চিন্তায় পরতে হয় তাদের। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শ্রাবনের এই মাঝামাঝি সময় অতিবর্ষণে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে চলতি আমন মৌসুমে বীজতলার ক্ষতি হলে বিপদগ্রস্ত হয়ে পরবে কৃষকরা। কৃষক আনসার মোল্লা বলেন, ‘ভাবছিলাম ৭ একর জমিতে এইবার আমন দিমু (দিব)। কিন্তু পানির লাইগ্যা (জন্য) পারমু না মনেহয়।’
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, বর্ষা মৌসুমে ওই গ্রামের কৃষি জমির বৃষ্টিবর্ষার পানি খাল-নালার মাধ্যমে চরগঙ্গা ¯øুইসগেট দিয়ে সরে যেত। কিন্তু কৃষি জমি ঘেঁষে বয়ে যাওয়া সরকারি খাল-নালা ১০ বছর আগেই দখল করে অন্তত ১০-১৫টি মাছের ঘের করেছে প্রভাবশালীরা। যার কারণে কৃষি জমিতে বৃষ্টিবর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও ¯øুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে পানি নামার বিকল্প হিসেবে থাকা একমাত্র কালভার্টটিও দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। এই কারণে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। স্থানীয় রহমান দফাদার ও জিয়া ফরাজি বলেন, ‘সব জায়গায় ঘের। পানি নামার সুযোগ নেই। খাল-নালা বাঁধ দিয়ে ঘের করার কারণে পানি সরছে না। ঘেরে মাছ চাষ করে কিছু মাথাওয়ালা প্রভাবশালীরা লাভবান হয়। কিন্তু চাষবাস না করে শত শত কৃষক অভাবে পড়ে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বলা যাচ্ছে না কারণ ওইসব জমিতে যদি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেক্ষেতে ক্ষতি কম হবে। আর পানি জমে গেলে ক্ষতি হবে। তবে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে ¯øুইজগেটগুলোর মাধ্যমে যথাযত পানি নিষ্কাশন করা হয়। কোন ভাবেই যেন কৃষকরা ক্ষতির মুখে না পড়ে।
এবিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে বলা আছে এবং আমি বলে দিয়েছি কোথায় যদি কোন বীজতলা বা পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে তাৎক্ষণিক আমাকে জানাবেন এবং উনি খুবই এ্যাক্টিব অফিসার আশা করি কৃষকের কোন ধরনের অসুবিদা হবে না।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD