রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ
◈ রাঙ্গাবালীতে ভিটেবাড়ি ও কৃষি জমি রক্ষার দাবি পাঁচ পরিবারের ◈ রাঙ্গাবালীতে পল্লী বিদ্যুতের কাজে বাগড়া, সিন্ডিকেটের দাপট ◈ রাঙ্গাবালীতে পরকীয়ার জেরে মনির হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি ◈ রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ ◈ রাঙ্গাবালীতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ◈ ‘শিগগরই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে’-এমপি মহিব ◈ রাঙ্গাবালীতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ◈ রাঙ্গাবালীতে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করছেন বিআরডিবি ◈ গলাচিপায় ইউনিয়ন পর্যায়ে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু ◈ গলাচিপায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালিত

রাঙ্গাবালীতে ৩শ’ ফুট লম্বা কাঠের সেতু নির্মাণ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ অপরাহ্ণ, ২৩ আগস্ট ২০২১ সোমবার 20 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক :

৩শ’ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকোটি ছিলো মহাদুর্ভোগের কারণ। প্রায় এক যুগ আগে স্বেচ্ছাশ্রমে আমলাভাঙা খালের ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করেছিল গ্রামবাসী। এরপর প্রতি বছরই মেরামত করে পারাপার হয়ে আসছেন এলাকার লোকজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেটি নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। লোকজন ওঠলেই থরথর করে কেপে উঠতো। তবুও বাধ্য হয়ে এ সাঁকোটি দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন চলাচল করছিল। সর্বশেষ চলতি মাসে স্থানীয়রা পুন:নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজিরহাওলা ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আমলাভাঙা খালের ওপর বাস্তবায়ন করেন ৩শ’ ফুট দৈর্ঘ্যের কাঠের সেতু।

জানাগেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার কাছিয়াবুনিয়া ও দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আমলাভাঙা খালের ওপর ৩শ ফুট লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন এলাকাবাসী। আর সেই সাকো পেড়িয়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা, উত্তর কাজিরহাওলা, গণ্ডাদুলা , নিজ হাওলা, ১৯ নম্বর রাঙ্গাবালী ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের অন্তত এক হাজার লোক পারাপার হয়ে থাকেন। তাছাড়া সেতুর উত্তর পাড়ে দক্ষিণ কাজির হাওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আর দক্ষিণ পাড়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদ, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী হামিদিয়া রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ, কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। তাই দক্ষিণ কাজির হাওলা, উত্তর কাজিরহাওলা, গণ্ডাদুলা   , নিজ হাওলা, উনিশ নম্বর ও কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের অন্তত এক-দেড় হাজার লোকের প্রতিদিন আমলাভাঙা খাল পারাপার হতে হয়। তাই স্থায়ী দুর্ভোগ লাঘবে সরকারিভাবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীর।
সরেজমিনে দেখাগেছে, ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২ দিন ধরে আমলাভাঙ্গা খালে প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করছে গ্রামবাসী। গত তিনদিন আগে শেষ হয়েছে নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে সেতু দিয়ে লোকজন পারাপারও হতে শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমাদের এই আমলাভাঙা খালটা দিয়ে লোকজন পারাপারে খুবই অসুবিধা তারপর আমরা গ্রামবাসি সকলের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে প্রথমত আমাদের নিজেদের উদ্যোগে ২০০৮ সাল থেকে আমরা এই সাঁেকাটি দিয়েছিলাম তখন আমাদের ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা দিয়ে গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মাণ করেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান,মেম্বার ও আমলাদের শরনাপন্ন হয়েছি তারা আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু সুরাহ হয়নি। চলতি বছর আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে গিয়েছিলাম তিনি আমাদের কাজে সহযোগীতা করেছেন এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি অনুদান দিয়েছেন তাতে আমাদের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি পরে গ্রামবাসি একত্রিত হয়ে আরো ১লাখ ৪৬ হাজার টাকা জোগান দিয়ে কাঠের সেতু নির্মাণ করি।

সেতু নির্মাণ কাজের আরেক উদ্যোক্তা রাঙ্গাবালী সরকারী কলেজের শিক্ষক নাজমুল মাসুদ বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল এখানকার মানুষ। গ্রামাবাসীর অর্থায়নে প্রতি বছরই একটি বাশের সাকো সংস্কার করে পারাপার হয়ে আসছি। চলতি বছর উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ে নিকট গেলে তিনি এখানে ডোনেশন করেন বাকিটা গ্রামবাসীর অর্থায়নে করেছি। কিন্তু যেভাবে করেছি তাতে হয়তো ২ বছর যেতে পারে কিন্তু স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি। তবে আমাদের দাবি যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজর দিয়ে একটি সেতু নির্মাণের মধ্যদিয়ে কয়েক গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ী সেতুবন্ধন করা হয়।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদ বলেন, আমলাভাঙা খালের ওপর দীর্ঘদিন যাবত ওখানকার লোকজন একটি বাঁেশর সাঁেকা পেড়িয়ে ঝূঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে আসছে। চলতি অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ থেকে তাদের দুই ধাপে ৯০ হাজার টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে এবং আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ যোগান দিয়েছি। একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করার জন্য । ওখানে যাতে একটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণ হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করছি। যাতে দ্রæত গ্রামবাসির দুর্ভোগ লাগোব হয়।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জায়গা পরিদর্শণ করে আয়রণ ব্রীজ প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD