সর্বশেষ :
নজরুলের ছড়ার নামবদল

‘ঘুম জাগানো পাখি’ হলো ‘আমি হব’

অনলাইন ডেস্ক: ১০:১১, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে কোটি কোটি নতুন বই তুলে দেওয়াকে সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এই সাফল্য ম্রিয়মাণ হয়ে যাচ্ছে পাঠ্যবইয়ের নানা ভুল-ভ্রান্তির কারণে। বই বিতরণের পর প্রায় প্রত্যেক বছরেই বের হয়ে আসে ভুলগুলো কিন্তু তাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ সতর্ক হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ প্রত্যেক বছরেই বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন ভুল। ভুলের ধারাবাহিকতায় এবার পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার নাম।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত দ্বিতীয় শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ২০ নম্বর পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি হব’ নামক ছড়া। অথচ এই ছড়াটির নাম হবে ‘ঘুম জাগানো পাখি’! প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এমন ভুল হলো পাঠ্যপুস্তকে, কেনইবা প্রত্যেক বছরেই সতর্ক করার পরও ভুল থেকে বেরুতে পারছে না সরকারের এই সংস্থাটি? উল্লেখ্য, এর আগে পাঠ্যবইয়ে কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ নামক কবিতার লাইন বিকৃত করা হয়েছিল। মূলে আছে ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’ অথচ বইয়ে ছাপা হয়েছে ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে?’

কবি কাজী নজরুলের কবিতার নামের এই ভুলের বিষয়ে ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। তিনি লিখেছেন, “কাজী নজরুল ইসলামের একটা বিখ্যাত ছড়া, যার প্রথম লাইন-‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’। ছড়াটা বাচ্চাকে শেখাতে গিয়ে চমকে উঠলাম। এনসিটিবির পাঠ্যবইয়ে সেটির নাম দেওয়া রয়েছে-‘আমি হব’। আমি নিশ্চিত ছিলাম ছড়াটির নাম ভুল। বাংলা বিশেষজ্ঞ এবং নজরুল বিশেষজ্ঞদের কয়েকজনকে ফোন দিলাম। একেকজন একেকটা বললেন। ইন্টারনেট সার্চ করে দেখলাম একই অবস্থা। কোথাও লেখা ‘খোকার সাধ’, কোথাও ‘আমি হব’, কোথাও বা ‘প্রভাত পাখির গান’। অবশেষে ফোন দিলাম নজরুল দৌহিত্র খিলখিল কাজীকে। তিনি মূল পাণ্ডুলিপি দেখে জানালেন ছড়াটির প্রকৃত নাম ‘ঘুম জাগানো পাখি’। এরকম কত অসংখ্য ভুলে ভরা স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইগুলো! কে তার হিসাব রাখে। কবি-লেখকদেরও যে কীভাবে রাষ্ট্রীয় ঔদাসীন্যে চরম অপমান করা হচ্ছে, তাতেই বা কার কী এসে যায়? ভুলে ভরা শিক্ষায় বেড়ে ওঠা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা না হয় বাদই দিলাম…!!’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলেও এনসিটিবি যে সতর্ক হচ্ছে না, তার প্রমাণ হলো এমন ভুল। তারা এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তারা কতটা উদাসীন তারও প্রমাণ মেলে এই ভুল থেকে। তাই এবার শুধু ভুল ধরিয়ে দেওয়া নয়, এ ব্যাপারে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুত্র: খোলা কাগজ

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ