যেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

০৭:৪১, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও দল পুনর্গঠনের পক্ষ মত দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, প্রবীণ ও ব্যর্থ হিসেবে যারা পরিচিত হয়েছেন, প্রয়োজনে তারা সরে যাবেন। পাশাপাশি তারা কাউন্সিলের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যোগ্যদের সামনে নিয়ে আসার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তাদের মতে, পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের সমন্বয়ে দল পুনর্গঠন করতে হবে। ১৮ জানুয়ারি, শুক্রবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা এমন অভিমত দেন।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখন তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।’ তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে। ভোটের অধিকার আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেই এই দেশটাকে রক্ষা করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন সামনের দিক এগিয়ে যাওয়া, পেছনের দিকে না তাকানো, পরাজিত না হওয়া। পরাজিত বোধ করলেই পরাজিত। আজকে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে। তারা নৈতিক দিক থেকে পরাজিত হয়েছে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই নির্বাচন একটা কাজ করেছে, আওয়ামী লীগকে চিরদিনের জন্য মানুষের মন থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের যে সব ভাই পঙ্গু হয়েছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের যে সব মা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে সব চেয়ে বড় প্রশ্ন আমাদের নেত্রী- যার নামে এখনো সমগ্র বাংলাদেশ একত্রিত হয়, তাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সেই জন্য সামনের দিনগুলোতে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন ভোট চুরি হয়েছে। আমি বলব ভোট ডাকাতি হয়েছে। ভোট হওয়ার কথা ছিল ৩০ ডিসেম্বর। ভোট ডাকাতি হয়েছে ২৯ তারিখ রাতে। এত বড় ডাকাতি পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হয়েছে কি না, সন্দেহ।’

খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১০ বছর গায়ের জোরে ক্ষমতায় ছিল। তাদের দেখলে প্রচার মনে হয়, বাংলাদেশ উন্নয়নে ভেসে গেছে। যদি এত উন্নয়ন হয়, তাহলে কেন জনগণ তাদের সমর্থন করল না। আগের রাতে ভোট ডাকাতির প্রয়োজন হলো কেন?’

নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছে দাবি করে ড. মোশাররফ বলেন, ‘তারা সাহসের সঙ্গে কাজ করেছে। আগে এত সাহসের সঙ্গে, এত আন্তরিকভাবে তাদের নামতে দেখিনি। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করার জন্য তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘৮০ ভাগ মানুষ এবার আওয়ামী লীগের বিদায় চেয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। সেই জন্য আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের কাছে যেতে চায়নি।’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘এখন আমাদের প্রথম দরকার পুনর্বাসন। আমাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে মামলা-মোকদ্দমার শিকার, যেভাবে বাড়িছাড়া—এগুলোর ব্যাপারে আমার প্রস্তাব মামলা-মোকদ্দমা থেকে তাদের পরিত্রাণ করানো, যারা জেলে আছে, তাদের মুক্ত করা, যারা আহত আছে, তাদের চিকিৎসা করানো।’

বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় কাজটি হলো দল পুর্নগঠন করা। ঘুরে দাঁড়াতে হলে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিতি হয়েছি, তাদের পদ ছাড়তে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এখন আমাদের জন্য দুটি কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যাওয়ার কারণে লাখ লাখ নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। দেখা-শোনা করতে হবে। যারা আহত হয়েছেন, তাদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সাহায্য দিতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘দ্বিতীয় কাজটি হলো, দল পুনর্গঠন করতে হবে। যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা প্রবীণরা সরে যাব। তারপরও দলটাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এই কাজ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে করতে হবে। তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাাঁড়তে পারব।’

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, আব্দুল মান্নান ও আহমেদ আজম খান।
সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ