আত্মহত্যার জন্য ডা. আকাশ নিজেই দায়ী: তসলিমা নাসরিন

অনলাইন ডেস্ক: ১০:১৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট করে আত্মহত্যা করেন এই চিকিৎসক।

বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এক ডাক্তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে কারণ তার ডাক্তার বউটি অন্য ছেলেদের সংগে প্রেম করতো, শুতো। এতে বড্ড রাগ হয়েছে ছেলের, তাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার মানেই সে তার বউকে খুব ভালোবাসতো, তা প্রমাণ করে না। বউ তাকে ছেড়ে চলে যাবে, ডিভোর্স দেবে, বউয়ের এত বড় স্পর্ধা তার সহ্য হয়নি। আত্মঅহমিকা অনেক সময় এত অতিকায় হয়ে ওঠে, এতে চির ধরলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না।’

তিনি আরো লেখেন, ‘ডাক্তার ছেলেটির হাত হয়তো নিশপিশ করছিল বউকে আর বউয়ের প্রেমিকদের খুন করতে, কিন্তু দেশ সুদ্ধ লোক জানবে সে খুনি, দেশ সুদ্ধ লোক দেখবে তার ফাঁসি হচ্ছে, বা তাকে জেলের ভাত খেতে হচ্ছে যাবজ্জীবন! এই ব্যাপারটি তার ভালো লাগেনি। খুন করতে না পারার এই অক্ষমতাও মানুষকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়। যাকে আমি আমার অধীন রাখতে চেয়েছি, আমার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চেয়ে তুচ্ছ, আমার চেয়ে মূর্খ না হয়ে যদি সে আমার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে আমাকেই টেক্কা দেয়, বা আমাকে অবজ্ঞা করে, তাহলে এ জীবন রাখার কোনও মানে নেই।’

তসলিমা নাসরিন আরো লেখেন, ‘ঈর্ষা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে কী করে মানুষ? হয় হত্যা নয় আত্মহত্যা। কেউ একজন আত্মহত্যা করেছে, সুতরাং সে খুব সৎ ছিল, সরল ছিল, মহান ছিল, মহামানব ছিল – এই ধারণাটি মস্ত ভুল ধারণা। কুখ্যাত খুনি হিটলার আত্মহত্যা করেছিল। বহু খুনি , সন্ত্রাসী, অপরাধীই আত্মহত্যা করেছে। বিশ্বাস না হয়, ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন। আজকাল তো ইতিহাস কেউ ঘাঁটে না। সহজ উপায় বলে দিই, গুগল করুন, ‘মারডারারস হু কমিটেড সুইসাইড’, অথবা ‘ক্রিমিনালস হু কমিটেড সুইসাইড’। দেখুন লিস্ট কত লম্বা।’

গত বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন ডা. আকাশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আকাশের স্ত্রী মিতু ও শ্বশুর, শাশুড়িসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মিতুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০০৯ সালে তানজিলা চৌধুরী মিতুর সঙ্গে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সবশেষ ২০১৬ সালে তারা বিয়ে করেন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ