মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা: পাঁচ সহস্রাধিক জেলে পরিবারে হাহাকার

অনলাইন ডেস্ক ১০:০০, ১৯ মে ২০১৯

এ বছর হয়তো ঈদ উদযাপন করা হবে না বাগেরহাটের শরণখোলার পাঁচ সহস্রাধিক জেলে পরিবারের। ইলিশের ভরা মৌসুমে ৬৫ দিন মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব জেলে পরিবারে হাহাকার শুরু হয়েছে। এলাকার অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। কাল থেকে কার্যকর হচ্ছে মাছ ধরার সেই নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত বলবত থাকবে এই অবরোধ।

গত ১০ মে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ (আইন) অধিশাখা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এদিকে ৬৫ দিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের হাজার হাজার জেলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো তারা মৌসুম শুরুর আগ থেকেই জাল-ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাবার অপেক্ষায়। এজন্য মহাজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আগাম দাদনসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণগ্রহণ করেছেন তারা। এ ছাড়া অনেকে এলাকার সুদের কারবারিদের থেকেও চড়া সুদে টাকা এনে সাগরে যেতে না পেরে এখন দেনায় ডুবু ডুবু।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, মৌসুমকে ঘিরে একেক জন ট্রলার মালিক খুলনা, বাগেরহাট, পাথরঘাটার মহাজন ও আড়ৎদারের কাছ থেকে ৪-৫ লাখ টাকা করে দাদন নিয়েছেন। এনজিও থেকে লোন এবং সুদেও টাকা এনেছেন অনেকে। এসব দেনা শোধ করতে অনেকে জাল-ট্রলার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বেকার হয়ে পড়া হতদরিদ্র জেলে পরিবারে এখনই হাহাকার শুরু হয়েছে। কাজ হারানো জেলেদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে যাওয়ার চিন্তা করছে। এবার জেলে পরিবারে আগের মতো আর ঈদ উৎসব পালিত হবে না। 

শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের বড় মুদি ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম, মো. সরোয়ার হোসেন ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী তাপস ভৌমিক বলেন, আমাদের এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য মৎস্য নির্ভর। সাগরে মাছ না পড়লে ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দেয়। এ বছর ইলিশ মৌসুমে রমজানের ঈদ। কিন্তু অবরোধ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সবাই হতাশায় পড়েছেন।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনে ইতোমধ্যে জেলেদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে কেউ যাতে সাগরে মাছ ধরতে না যায় সেজন্য এলাকায় মাইকিং করে সবাই সতর্ক করা হচ্ছে। তাছাড়া ফিশিং ট্রলার মালিকদের কাছে মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের কপি পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার স্টাফ অফিসার (অপারেশন) মো. ইমতিয়াজ আলম বলেন, মৎস্য অবরোধ সফল করতে টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের আউট স্টেশনগুলোতে লোকবলও বাড়ানো হয়েছে। রুটিনের বাইরেও বিশেষ অভিযান চলবে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ