কালো ধোঁয়া, হাইড্রলিক হর্ন আর যত্রতত্র মাইকিং

অনলাইন ডেস্ক ০১:০০, ২২ জুন ২০১৯

চুয়াডাঙ্গায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাড়ছে এর মাত্রা। এ জেলায় ফিটনেসবিহীন কিছু বাস, মিনিবাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহন এর সাথে যুক্ত হয়েছে অবৈধ শ্যালোইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধু,  করিমন। এসব যানবাহনের মধ্যে শ্যালোইঞ্জিনচালিত অবৈধ যান আলমসাধু ও করিমন থেকে বেশি কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া এমন অবস্থার সৃষ্টি করে যে এর পেছনে দাঁড়ানো মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়। তবুও বিষক্ত ধোঁয়ায় সড়ক অন্ধকার করে অবাধে চলাচল করছে এ সব যানবাহন।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরসহ দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ওপর দিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো যানবাহনের শতকরা ৬০ ভাগই কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে থাকে। এই ৬০ ভাগের ৪০ ভাগই শ্যালোইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধু, করিমন। মহাসড়কে এর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ায় এসব যান।

পরিবেশবিদদের মতে, ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে যানবাহন চলার সময় কালো ধোঁয়া ছড়ায়। যা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হাইড্রলিক হর্ন বাজানো ছাড়াও প্রতিদিন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাজানো হচ্ছে উচ্চস্বরে মাইক। শব্দদূষণ প্রতিরোধে হাইড্রলিক হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক শ্রেণির গাড়িচালক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাবার সময় উচ্চস্বরে এই হাইড্রলিক হর্ন বাজিয়ে থাকে। নিষিদ্ধ হলেও আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি মাইকের উচ্চশব্দে যথেষ্ট অপব্যবহার পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনরাত মাইক প্রচার করে মোবাইলের সিমকার্ড, মাংস, ডিম, বৈদ্যুতিক বাল্ব, লটারির টিকিট বিক্রি, রাস্তার পাশে ওষুধ বিক্রির জন্য উঁচু আওয়াজে মাইক বাজানো হয়ে থাকে। যা মানুষ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহৃত মাইকের যথেষ্ট ব্যবহার বন্ধে কোনো আইনসঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। যার কারণে শব্দদূষণও ব্যাপক হারে বেড়ে চলছে।

এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের স্বর্ণের দোকানে সোনার জিনিস তৈরির কাজে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করার ফলে এর ঝাঁঝাল দুর্গন্ধ পরিবেশের দূষণ ঘটাচ্ছে। এ অবস্থা বন্ধ করার জন্য আইনের কোনো প্রয়োগ নেই।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ বলেন, পরিবেশবান্ধব একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কালো ধোঁয়ার সঙ্গে বস্তুকণা, সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, সিসাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় থাকা বস্তুকণা ও সালফার ডাই অক্সাইডের প্রভাবে ফুসফুস, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও সিসার কারণে শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তি ব্যাহত হয়।

তিনি আরো জানান, অতি উচ্চ মাত্রায় শব্দদূষণের ফলে যেকোনো বয়সে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রত্যেককেই পরিবেশ রক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা। তাহলেই দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ