নান্দাইলে দুই মাস ধরে ঘুমাচ্ছে এক শিশু, অপেক্ষায় মা-বাবা

অনলাইন ডেস্ক ০২:০০, ২২ জুন ২০১৯

শিশু সিয়াম (৮) ঘুমে। পাশে বসে আছেন মা-বাবা। অপেক্ষা কখন ঘুম ভাঙবে। কিন্তু, প্রায় দুই মাস পার হতে চলল সন্তানের ঘুম ভাঙছে না। মা-বাবার অপেক্ষাও ফুরাচ্ছে না। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরাকোনা গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে গতকাল শুক্রবার এই দৃশ্য দেখা গেছে।

সবজি বিক্রেতা মো. গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী হাদিসা বেগম জানান, সিয়াম স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। নাদুস-নুদুস গড়নের সদা হাস্যোজ্জ্বল ও চঞ্চল ছেলেটি গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ঘুরানো ছাড়াও মাঝে মধ্যে বমিসহ তীব্র মাথাব্যথায় অস্থির হয়ে পড়ত সে। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেয়ে কিছুটা ভালো হলেও আবারও একই অবস্থা হতো। এতে পরিবারের লোকজন শিশু সিয়ামকে নিয়ে পড়ে যায় মহাবিপাকে। প্রচুর অর্থ খরচ করেও স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসায় সেরে ওঠেনি। ময়মনসিংহ জেলা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে সিয়ামকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভর্তি করানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এক সপ্তাহের মধ্যে শিশুটির মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে উঠলে ৪ মার্চ পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। প্রায় এক মাস পর আবার সিয়ামের আগের রোগ দেখা দেয়। এবার মাথার তীব্র যন্ত্রণায় পরিবারের লোকজনকে মারধরসহ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে সে।

বাবা গিয়াস জানান, এ অবস্থায় ঢাকায় গিয়ে আগের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনা জানান তাঁরা। ফের ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ধারদেনা ও সহায়সম্বল বিক্রি করে প্রায় চার লাখ টাকা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে তিনি ঢাকায় যান। সেখানে আবারও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় সিয়ামের মাথায় টিউমার রয়েছে। ফের তার অস্ত্রোপচার করাতে হবে। অন্যথায় তাঁর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শে সিয়ামের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২৪ দিন থাকলেও ছেলের চেতনা ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় প্রতিদিন বাড়ে অর্থ সংকট। একপর্যায়ে অর্থ সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিয়ামকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে। সেখানে ১৫ দিন থাকার পরও চেতনা ফেরেনি তার। পরে ব্যয় মেটাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতাল ত্যাগের পরামর্শ দেয়। এক রকম বাধ্য হয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। এরপর প্রায় দুই মাসেও ছেলের চেতনা ফেরেনি। শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেও অচেতন শুয়ে আছে ছেলেটি। নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন বলেন, ‘শিশুটি কোমায় আছে। এ ধরনের শিশুর এক সপ্তাহের মধ্যে চেতনা ফেরে। আবার কোনো কারণে নাও ফিরতে পারে।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ