অবসরকালীন পাওনা টাকা উত্তোলনে স্বাক্ষর জাল!

অনলাইন ডেস্ক ০৩:০০, ১২ জুলাই ২০১৯

অবসরকালীন সময়ের পাওনা টাকা উত্তোলনের জন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল ও সিলমোহর তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করায় অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।

এই ঘটনায় বিব্রত কলেজ পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক কর্মচারী। আর থানায় জিডি হওয়ার পরই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের জালিয়াতির খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছেন আব্দুল কাদের। এই ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা ঈশ্বরদীস্থ দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজে।

খোঁজ নিয়ে ও কলেজের একাধিক সূত্র মতে জানা যায়, দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজে চাকরি খেঁকো বলে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের। তৎকালীন সময়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারসহ স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতার যোগসাজছে বিনা অপরাধে তিনজন প্রভাষককে চাকরিচ্যুত করেন। তাদের স্থলে নতুন করে প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এ ছাড়া তিনি কলেজের বিভিন্ন কাজের ভাউচার ও রশীদ জালিয়াতি করে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, পরীক্ষার ফি, সেশন ফিসহ যাবতীয় কল্যাণ ও উন্নয়ন ফি প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করেন।

সূত্রগুলো মতে আরো জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের এসব অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ১১ আগস্ট /২০১৭ সালে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য ৫ সেপ্টেম্বর/ ২০১৭ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আলহাজ সাইদুল ইসলাম মান্না সরদারকে আহ্বায়ক এবং আবু বাশার সিদ্দিকী ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল সরদারকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালেই অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের গত ২ জুলাই/২০১৮ অবসর গ্রহণ করেন। তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রভাষকদের অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা, নতুন প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে অর্থ বাণিজ্য, কলেজের বিভিন্ন কাজের ভাউচার ও রশীদ জালিয়াতি করে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, পরীক্ষার ফি, সেশন ফিসহ যাবতীয় কল্যাণ ও উন্নয়ন ফিসহ প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। যে কারণে অধ্যক্ষকে অবসরকালীন পাওনা উত্তোলনের জন্য ছাড়পত্র প্রদান না করার জন্য তদন্ত কমিটি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। এই কারণেই আব্দুল কাদের অবসরে যাওয়ার পর কলেজ পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া অবসরকালীন ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের টাকা উত্তোলনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন।

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের একজন দুর্নীতিবাজ লোক। অবৈধভাবে তার স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল করে অবসরকালীন পাওনা উত্তোলনের জন্য ভুয়া ছাড়পত্র তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যানবেইসে আবেদন জমা দিয়েছেন। এই জন্য তার বিরুদ্ধে থানায় জালিয়াতির জিডি করা হয়েছে।

দাশুড়িয়া ডিগ্রি পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের দুর্নীতির তদন্ত কমিটির সদস্য আবু বাসার সিদ্দিকী জানান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের ব্যক্তি হিসেবে ভালো না। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের মোবাইলে গত শনিবার, রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ