সেই ‘বালিশ ঠিকাদার’ এবার নিম্নমানের জেনারেটর দিতে চান রামেকে

অনলাইন ডেস্ক ১১:০০, ১৮ জুলাই ২০১৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে বালিশ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিম্নমানের জেনারেটর সরবরাহ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিম্নমানের ওই জেনারেটর এখনো গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিও দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। তার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জেনারেটরটি গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে সাজিন এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী পাবনার জনৈক শাহাদত হোসেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এক হাজার কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ ও ৫০০ কেভি জেনারেটর সরবরাহের জন্য গত বছর টেন্ডার আহ্বান করে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ। কাজটি পায় সাজিন এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজ পাওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। জেনারেটরের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যে কেবল দেওয়ার কথা ছিল, শিডিউল অনুযায়ী তা দেওয়া হয়নি। শিডিউলে বিআরবি কেবলের কথা বলা হলেও সরবরাহ করা হয় অন্য কম্পানির কেবল। আবার বাইরে কেবলের কোনো কাজ না করে ভেতরে দায়সারা কাজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জেনারেটর সরবরাহের জায়গায় ভুয়া এলসি দেখিয়ে নিম্নমানের জেনারেটর সরবরাহের চেষ্টা চলছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ টাকা। টেন্ডারে নির্দিষ্ট মডেল উল্লেখ করে ইউকে, ইটালি কিংবা জার্মানে তৈরি জেনারেটর সরবরাহের কথা বলা হলেও সে অনুযায়ী করা হয়নি। 

ফলে নিম্নমানের এই জেনারেটরটি সরবরাহ করতে চাইলে গ্রহণ না করায় এখন নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। অনাপত্তি দিয়ে জেনারেটরটি গ্রহণ করানোর চেষ্টা করছে তারা।

এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মাসুম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিম্নমানের কেবল সরবরাহ করা হয়েছে। বারবার নিষেধ করার পরও অনেকটা জোর করেই ওই কেবল সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু জেনারেটরের জায়গায় আবারও বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। তারা যে দেশ থেকে জেনারেটর সরবরাহের কথা বলেছে বাস্তবে তার মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি জেনারেটরটি চালু করে দেখাতে বলা হলেও সেটি করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় জেনারেটরটি আমরা গ্রহণ না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’

জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ কান্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেনারেটরের বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত তাঁরাই  দেবেন।’  

জানতে চাইলে ঠিকাদার শাহাদত হোসেন বলেন, ‘কাজটি তো এখনো শেষ হয়নি। আমরা শিডিউল অনুযায়ী জেনারেটর সরবরাহ করেছি। কেবলও শিডিউল অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ