জামা-জুতায় শনাক্ত স্কুলছাত্রীর লাশ

অনলাইন ডেস্ক ১১:০০, ৯ অক্টোবর ২০১৯

গ্রামের ঝোঁপঝাড়ের ভেতরে মিলেছিল হাত,পা ও মাথা ছাড়া কিশোরীর গলিত লাশ। তাতে নিহতের পরিচয় উদঘাটন হয়ে পড়েছিল কঠিন। অবশেষে লাশের পাশে থাকা জামা ও জুতার সূত্র ধরে পুলিশ পেয়েছে পরিচয়। শুরু হয়েছে খুনি শনাক্তের কাজ। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ এলাকার।

সূত্র জানায়, সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের পিয়ারনগর এলাকায় ৪ অক্টোবর একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত পরিচয় কিশোরীর গলিত লাশ। হাত, পা ও মাথা বিহীন লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সোনারগাঁ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর প্রায় পাঁচদিন ছিল অনেকটা দিশাহীন। কিশোরীর পরিচয় জানতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ নেন ভিন্নপন্থা। তিনি নিজ এলাকার বাইরে খোঁজখবর শুরু করেন। আর তাতেই মিলে যায় পরিচয়। কিশোরীর নাম জান্নাতুল জেবা। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি কোনাপাড়া এলাকার মান্নান উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সে নিখোঁজ হলে ডেমরা থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল।

সোনারগাঁ থানায় মামলা হলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ কিশোরীর পরিচয় জানার চেষ্টা করেন গুরুত্বসহকারে। তিনি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার জামা কাপড় ও জুতা নিয়ে আশেপাশের বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করেন। তিনি জানতে পারেন ডেমরা থানায় একটি মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর জিডি করা হয়েছে। সে জিডির সূত্র ধরে এসআই আজাদ সোমবার রাতে পৌছেন নিখোঁজ কিশোরীর বাসায়। মা ও বাবাকে দেখান আলামত হিসেবে জব্দ করা জামা কাপড় ও জুতা। সবকিছু বিবেচনায় তারা লাশটি তাদের মেয়ের বলে নিশ্চিত করেন।

এসআই আজাদ বলেন, ‘ নিহত জান্নাতুল জেবা যাত্রাবাড়ির কোনাপাড়ায় অবস্থিত মান্নান উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ছাত্রী। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার চরমানিকদা গ্রামে। বাবা দিদার মিয়ার সাথে কোনাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় তারা থাকতো। জেবা কিভাবে নিখোঁজ হয় সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা মেলেনি।’

জেবার মা মানছুরা বেগম বলেন, ‘ঘটনার রাতে কে বা কারা মেয়েকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়েছে। এরপর বহু খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া যায়নি।’

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। আশাকরি হত্যায় জড়িতদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করতে পারবো।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ