লাল চকলেট খেয়ে ৮৬০ টাকা গচ্ছা!

অনলাইন ডেস্ক ০৭:০০, ৮ নভেম্বর ২০১৯

একটা লাল রঙের চকলেট খেয়ে বৃদ্ধ ভিক্ষুক সলিম উদ্দিনকে (৬২) গচ্ছা দিতে হয়েছে আটশ ৬০ টাকা! আর অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছে দু’দিন। তবে শামীম রহমান জয় ও ইমরান তুষার নামের দুই তরুণের বদান্যতায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পেরেছেন এই ভিক্ষুক। 

জানা যায়, গত কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে তৃতীয় সন্তান মতিউরকে (৭) নিয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চলে আসেন সলিম উদ্দিন। এখানে ভিক্ষা করেন, এখানেই থাকেন। গত রবিবার রাতে অপরিচিত এক লোকের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। কথায় কথায় বেশ ভাব জমে ওঠে দুজনার। আলাপের এক ফাঁকে সলিম উদ্দিন ওই লোককে দিয়ে তার কাছে থাকা ভিক্ষার আটশ ৬০ টাকা গুনে রাখেন। এ সময় ওই লোকের কেনা লাল রঙের চকলেট খান তিনি। তার সামনে বসে ওই লোকও খায়। পরে তিনি আর কিছুই জানেন না। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন।

ভিক্ষুক সলিম উদ্দিন জানান, তিনি পেশায় একজন ভিক্ষুক। কিশোরগঞ্জ জেলার মানিকখালির নাগেরগাঁও এলাকায় তার বাড়ি। তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় এবং সেই স্ত্রীর গর্ভে সন্তান না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমান স্ত্রীর নাম রূপা বেগম (৩৪)। রূপার গর্ভে তার চার সন্তান। দুই ছেলে দুই মেয়ে।

ভৈরব শহরের দক্ষিণ ভৈরবপুর এলাকার তরুণ সমাজকর্মী শামীম রহমান জয় জানান,  তিনি তার বন্ধু ইমরান তুষারকে সঙ্গে নিয়ে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যান সোমবার সকালে একটি প্রয়োজনে। তখন হঠাৎ তারা দেখতে পান রেলওয়ে স্টেশনের ওভার ব্রিজের নিচে মানুষের জটলা। তারাও তখন সেখানে যান। দেখেন এক বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। পাশে তার শিশু সন্তানটি কাঁদছে। পরে তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অজ্ঞান বৃদ্ধকে অটোরিকশা করে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানকার জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করেন পুরুষ ওয়ার্ডে। সেখানে রাতেই বৃদ্ধের জ্ঞান ফিরে আসে। পরে তার কাছ থেকে তার স্ত্রীর মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করেন। পরে তার স্ত্রী এসে আজ বিকালে স্বামী ও শিশু সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যান।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. কেএনএম জাহাঙ্গীর জানান, ভিক্ষুক সলিম উদ্দিনকে লোকটি চকলেটের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেয়। তিনি বর্তমানে সুস্থ। আজ তাকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ