সোনারগাঁয়ে দখলমুক্ত হলো অরক্ষিত শহীদ মিনার

অনলাইন ডেস্ক ০২:০০, ৮ নভেম্বর ২০১৯

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রভাত ফেরির এ গানটি পরদিনই আমরা ভুলে যাই। ভুলে যাই ভাষা শহীদদের সম্মানে তৈরি শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণের কথা। শুধুমাত্র একদিন পুষ্পার্ঘ অর্পণের পরই শহীদ মিনারে তৈরি হয় ময়লার ভাগাড়। এমনই একটি শহীদ মিনার সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সিএনজি স্টেশনে নির্মিত হয়েছে। এ শহীদ মিনার ফেব্রুয়ারির পর থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড ও শৌচাগারে পরিণত হয়।

উপজেলার কাঁচপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন নির্মিত শহীদ মিনারটি অবৈধ সিএনজি ও অটোবাইক পার্কিং স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলেন সদ্য যোগদান করা কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি শহীদ মিনারটি দখলমুক্ত করে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে চারদিক বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয় একটি শহীদ মিনার। স্থানীয় বাসিন্দারা শহীদ মিনারটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতো। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় সিএনজি ও অটোবাইক পার্কিং স্টেশন করে চাঁদা আদায় করেন। নিরাপত্তা বেস্টনী না থাকায় পথচারী ও সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীরা শহীদ মিনারের পেছন দিকটা শৌচাগার হিসাবে ব্যবহার করতো। মাদকসেবীদের নিরাপদ মাদক বেচাকেনার স্থান হিসেবেও শহীদ মিনারকে বেছে নেয়।

হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোজাফ্ফর হোসেন যোগদানের পর শহীদ মিনারের এ অবস্থা দেখে সিএনজি ও অটোবাইক পার্কিং স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে নিরাপত্তা বেস্টনী নির্মাণ করে দেন।

এ ব্যাপারে ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, বাংলা ভাষা এখন শুধু বাঙালিদের ভাষা নয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। এ মায়ের ভাষা রক্ষা করতে যারাজীবন দিয়েছে সে শহীদদের যথাযথ সম্মান করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। শুধু একদিনের জন্য নয়, সারা বছর বুকের মাঝে শহীদদের লালন করার নৈতিক দায়িত্ব থেকেই শহীদ মিনারটি রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলাম।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ