সর্বশেষ :

ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হত্যা পূর্বপরিকল্পিত

অনলাইন ডেস্ক ০৩:০০, ২০ নভেম্বর ২০১৯

গণপিটুনি নয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলকে। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর গতকাল মঙ্গলবার খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর ও জাতীয় পার্টির একজন নেতাসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগরীর ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহির হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় চার পাতার অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সরাইপাড়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর সাবের আহাম্মেদকে (৫৫)। তিনি পাহাড়তলী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি। আসামির তালিকায় ২ নম্বরে আছেন জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান খান (৫৫)। বাকি আসামিরা সবাই তাঁদের অনুসারী।

পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগপত্র প্রসিকিউশন শাখায় জমা দিয়েছি। ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। ৩৫ জনকে ঘটনার পর বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া মামলার বাদীসহ ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।’

গত ৭ জানুয়ারি সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী বাজারে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন সোহেলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী ও জনতা মিলে মহিউদ্দিন সোহেলকে পিটুনি দেওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ৮ জানুয়ারি রাতে মহিউদ্দিন সোহেলের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বাদী হয়ে নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে সাবের, ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে তদন্তে পুলিশ পেয়েছে পাহাড়তলী বাজারসহ আশপাশের এলাকা একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবের আহাম্মেদ ও ওসমান খান। বাজারের পাশে ‘জানাজার মাঠ’ নামে একটি স্থানে বেশ কিছু অবৈধ দোকানপাট, মাদকের আখড়া ছিল। বাজারকে কেন্দ্র করেও বেশ কিছু অসামাজিক ও অবৈধ কার্যকলাপ হতো। এর সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবের ও ওসমান।

ঘটনার কয়েক মাস আগে মহিউদ্দিন সোহেল বাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় নিজের অফিস চালু করেন। রেলওয়ের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জানাজার মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করেন। পুলিশের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে পাহাড়তলী বাজার এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করেন। এতে সাবের ও ওসমানের মধ্যে তাঁদের আধিপত্য হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়। তাঁরা মহিউদ্দিন সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে খুন করে গণপিটুনি বলে প্রচার চালানো হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ