সর্বশেষ :

বাদলের শূন্য আসনে প্রার্থিতা নিয়ে কঠিন সমীকরণ

অনলাইন ডেস্ক ০৩:০০, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি ও টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের  চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন জোট কঠিন সমীকরণে। আগামী ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে প্রয়াত বাদলের পরিবার, আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনএফের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। সবাই মহাজোট থেকে একক প্রার্থী হতে চান। আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বও বিপাকে পড়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়।

শেষ পর্যন্ত এ জোট থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাঁদের কারো কারো পক্ষে বেশ কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে নিজ নিজ প্রার্থীদের অবস্থান তুলে ধরছেন। 

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত শোডাউন করে আসছেন। তাঁরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়নেরও দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রে। 

গত রবিবার নির্বাচন কমিশন আসনটির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ওই দিন রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিতদের মধ্যে তিন নেতা আসনটিতে নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি জানান। তাঁরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের। এই তিনজনের নাম প্রস্তাব আকারে সংগঠন থেকে দু-এক দিনের মধ্যে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-৯ আসন) নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজনসহ বিভিন্ন পদের ডজনখানেক নেতা। 
আলোচনায় আরো রয়েছে প্রয়াত মইন উদ্দীন খান বাদলের সহধর্মিণী সেলিনা খান বাদলের নামও।

এদিকে গত রবিবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাসদ (একাংশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ হাশেম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদসহ মহাজোটের আরো কয়েকজন নেতাও মনোনয়নপ্রত্যাশী। আলোচনায় আছে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়বের নামও। তৈয়ব এই আসনে এর আগে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করা এস এম আবুল কালামের ছোট ভাই।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-৮ আসনে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের দল থেকে মহাজোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। দল থেকে আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

জাসদ (একাংশ) কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই  আসনে দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ হাশেমকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে আমরা আসনটিতে আমাদের প্রার্থীর মনোনয়নপ্রত্যাশী।’ 

দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আসনের অধিকাংশ ভোটার নগরের পাঁচটি ওয়ার্ডে। এসব ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা গত রবিবার নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিত চিঠি দিয়ে আমাকে প্রার্থী দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছেন। একই চিঠি নিয়ে উনারা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনজনের নাম আসলেও ৯৫ শতাংশ নেতাই আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে।’ 

মনোনয়নপ্রত্যাশী একই কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এ রকম কোনো তালিকা চায়নি। কেন্দ্র থেকে না চাইলে এই তালিকার কোনো ভিত্তি নেই। আমার সঙ্গে দলের হাইকমান্ডের যোগাযোগ রয়েছে। আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী। জনগণ ও তৃণমূল আমাকে এ আসনে দেখতে চায়। আমি এ আসনে দল থেকে দুইবার (নবম ও দশম সংসদ নির্বাচন) মনোনয়ন পেয়েছিলাম। পরে জোটের বৃহত্তর স্বার্থে দলের সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘আমি দল থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে আগামীকাল ঢাকা যাচ্ছি। এলাকায় আমার অবস্থান ভালো। গত তিনটি নির্বাচনে আমি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের জোট প্রার্থী (মইন উদ্দীন খান বাদল) বিজয়ী হন।’   

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগর আংশিক) আসনের ভোটগ্রহণ আগামী ১৩ জানুয়ারি। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ ডিসেম্বর। 

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য ফরম বিতরণ শুরু করা হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৭ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম বিক্রির পাশাপাশি জমা নেওয়া হবে।   

উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ