সর্বশেষ :

শালিস থেকে উঠিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাকে মারধর, এসআই ক্লোজড

অনলাইন ডেস্ক ১২:০০, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকায় দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছেলে ও হিন্দু ধর্মের মেয়ের মধ্যে বিয়ের শালিসে সাদা পোশাকের পুলিশের অনাহুত বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় শালিস বৈঠক থেকে ওই প্রেমিক প্রেমিকাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে পুলিশ রাস্তার উপরই মারধর করতে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রবিবার রাতে শহরের ডন চেম্বার ব্যাংক কলোনি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। 

এদিকে সাদা পোশাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে উপেক্ষা করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করায় এসআই আমিনুর রহমানকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ক্লোজ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিন বলেন, ব্যাংক কলোনি এলাকা স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গিরের ছেলে রফিকের (২১) সঙ্গে স্থানীয় এক হিন্দু মেয়ের (১৮) প্রেম ছিল। ১৫ দিন আগে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তারা বিয়ে করতে চায় এবং কোর্ট থেকে এ সংক্রান্ত অনুমতি নিয়ে আসে। রবিবার এলাকায় ফিরে তারা বিয়ের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের শরণাপন্ন হয়। পঞ্চায়েত কমিটি দুই পরিবারকে একত্রিত করে এবং তাদের মতামত জানতে চায়। ওই সময় দুই পরিবারের সদস্যরাই বিয়েতে সম্মতি দেন। কিন্তু মেয়ের মা বিষয়টি গোপনে পুলিশকে অবহিত করলে সদর থানার এসআই আমিনুর রহমান সাদা পোশাকে দু’জন কনসটেবল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হুলস্থুল বাধিয়ে দেন। তারা ছেলে মেয়েকে হাতকড়া পরিয়ে মারধর শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয় এলাকাবাসী। পুলিশ সদস্যদের আটকে দেওয়া হয় গণপিটুনি। খবর দেওয়া হয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

পরে সদর থানার ওসি (তদন্ত) জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার জন্য পঞ্চায়েত কমিটির কাছে মাফ চেয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের মুক্ত করে নিয়ে আসে। 

সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার জন্য অভিযুক্ত এসআই আমিনুর রহমানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে ছেলে মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ওই ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিল। রবিবার মেয়ের মা-ই এসআই আমিনুরকে ফোন করে ছেলে মেয়ের ফিরে আসার খবর দিয়ে তার মেয়েকে এ বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে অনুরোধ করেন। সেই মোতাবেক এসআই আমিনুর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে তিনি পরিস্থিতি ঠিক ভাবে সামাল দিতে পারেননি বিধায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। ছেলে-মেয়ের ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ