সর্বশেষ :

সীতাকুণ্ড পাহাড়ে ভাল্লুকের বাচ্চাকে পিটিয়ে হত্যা!

অনলাইন ডেস্ক ০২:০০, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে এসে গ্রামবাসীর প্রহারে নির্মমভাবে মারা গেছে একটি ভাল্লুকের বাচ্চা। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর পাহাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর কিছু পাহাড়ী লোকজন ভাল্লুকটিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে এর আগে ভাল্লুকটি ধরতে গিয়ে কামড়ে আহত হয়েছে এক ব্যক্তি। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের পাহাড়ের তলদেশে একটি ভাল্লুকের বাচ্চা নেমে আসলে সেখানে থাকা কয়েকজন যুবক ভাল্লুকটিকে ধরার চেষ্টা চালায়।

এ সময় ভাল্লুকের বাচ্চাটি স্থানীয় ইকবাল হোসেন (২৬) নামক এক যুবককের হাতে কামড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা ভাল্লুকের বাচ্চাটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পাশাপাশি আহত ইকবালকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ইকবাল শীতলপুর গ্রামের মো. খলিল আহমদের ছেলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহত ইকবালকে হাসপাতালে ভর্তি করানো তার ভাই জাহেদুল ইসলাম সম্রাট ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে ভাল্লুকের বাচ্চাটি পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসে। ইকবালসহ অন্যরা সেটি ধরতে গেলে ভাল্লুকটি ইকবালের হাতে কামড়ে দেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারা ইকবালকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দেয়। বর্তমানে ইকবাল আশংকামুক্ত আছে।

এদিকে সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর সর্দার কাঞ্চন ত্রিপুরা জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে এলাকায় এসে জানতে পারেন যে ভাল্লুকের মতো দেখতে ওই প্রাণীটি নিচে এসে পানির কাছাকাছি গেলে স্থানীয়রা সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে কিছু রাঙামাটির থেকে এসে এখানে বসবাসকারী কিছু আদিবাসী মারমারা সেটি গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার পর প্রাণীটিকে কেউ ভাল্লুক আবার কেউ বনরুই বলে দাবি করতে থাকেন। তবে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহজালাল মো. ইউনুস মৃত প্রাণীটির ছবি দেখে এটি একটি ভাল্লুকের বাচ্চা বলে নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে পাহাড়ে একটি বন্য প্রাণীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও বিষয়টি অবগত হননি বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা শীতলপুর বনবিটের কর্মকর্তারা।

শীতলপুরের বিট অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, এ প্রতিবেদকের কাছেই তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। পরে ভুক্তভোগি ইকবালের স্বজনদের কাছে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আসলে সে সময় আমরা কেউই ছিলাম না। তবে গ্রামবাসীরা এই প্রাণীটিকে দেখে মনে করেছেন এটি কবরে লুকিয়ে থেকে মৃত মানুষের দেহ খায়। এ জন্য তারা এটি পিটিয়ে হত্যা করেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ